বুধবার - সেপ্টেম্বর ২৭ - ২০২৩

উত্তরের আলো কানাডায় অভূতপূর্ব প্রদর্শন

উত্তরের আলো কানাডায় অভূতপূর্ব প্রদর্শন

আমরা শুনেছি বা কেউ কানাডায় হয়ত পর্যবেক্ষণ করে থাকবেন, উত্তর গোলার্ধে রাতের আকাশে একটি রঙিন আলোর প্রদর্শন দেখা দেয় বছরের বিভিন্ন সময়ে। একে নর্দারন লাইটস (উত্তরের আলো) বা অরোরা বোরিয়ালিস বলা হয়। একইভাবে দক্ষিণ গোলার্ধের অরোরা দক্ষিণের আলো, বা অরোরা অস্ট্রালিস নামে পরিচিত।এটি তাসমানিয়া, নিউজিল্যান্ড এবং অ্যান্টার্কটিকার মতো দক্ষিণের মেরু অঞ্চলের নিকট থেকে সবচেয়ে ভালো দেখা যায়।

একটি অরোরা, সাধারণত পোলার লাইট নামেও পরিচিত। এটি পৃথিবীর আকাশে একটি প্রাকৃতিক আলো প্রদর্শন করে, প্রধানত উচ্চ-অক্ষাংশ অঞ্চলে দেখা যায়। অরোরা উজ্জ্বল আলোর গতিশীল নকসা বা প্যাটার্ন যা পর্দার মত, রশ্মি, সর্পিল এবং গতিশীল ঝিকিমিকি বা মিটমিট করা ফ্লিকারের মতো মেরু অঞ্চলের সমগ্র আকাশকে আবৃত করে। বিশেষভাবে বলা যায় এগুলো পৃথিবীর চৌম্বকীয় মেরুর কাছে ঘটে৷

- Advertisement -

উত্তরের আলোগুলো আবিষ্কার করতে—কিভাবে গঠন হয় ও কী করে দেখতে হয় বিশদভাবে জানতে কানাডিয়ান স্পেস এজেন্সি বা নাসার কিছু ভিডিও রয়েছে আগ্রহী পাঠকগণ নিচের লিঙ্ক থেকে দেখতে পারেন।

যখন অরোরা ঘটে, চার্জযুক্ত কণা (ইলেকট্রন এবং প্রোটন) পৃথিবীর উপরের বায়ুমণ্ডলে গ্যাসের সাথে সংঘর্ষে আসে।এই সংঘর্ষগুলো ছোট ছোট ফ্ল্যাশ তৈরি করে যা আকাশকে রঙিন আলোয় পূর্ণ করে। ক্রমানুসারে যখন কোটি-কোটি ফ্ল্যাশ ঘটে, আকাশে মনে হবে অরোরা নৃত্য করছে।

পৃথিবীর পোলার-চৌম্বক ক্ষেত্র চার্জযুক্ত কণাগুলোকে পোলের দিকে টেনে নিয়ে যায়। চৌম্বক ক্ষেত্রের আকৃতি উত্তর এবং দক্ষিণ চৌম্বক মেরুর উপরে দুটি অরোরাল ডিম্বাকৃতি তৈরি করে। এ’কারণেই কানাডার উত্তর আকাশে আগস্ট থেকে মে পর্যন্ত প্রায় প্রতি রাতেই অরোরা কম বেশি প্রদর্শন হয়ে থাকে।

যেহেতু আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনটি মেরু আলোর সমান্তরাল উচ্চতায় রয়েছে, তাই নভোচারীরা তাদের চোখের স্তরে অরোরা দেখতে পান।এখানে একটি উদাহরণ দেয়া যেতে পারে।

সৌর সমীরণ বা সোলার উইন্ড :

সৌর বায়ু হল সূর্যের বাইরের বায়ুমণ্ডল থেকে প্রোটন এবং ইলেকট্রনের একটি ক্রমাগত প্রবাহ —যা করোনা নামে পরিচিত। স্পেস ওয়েদার প্রেডিকশন সেন্টার অনুসারে, এই চার্জযুক্ত কণাগুলো প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ২৫০ মাইল (৪০০ কিলোমিটার) থেকে প্রতি সেকেন্ডে ৫০০ মাইল (৮০০ কিলোমিটার) গতিতে প্লাজমা আকারে সৌরজগতের মধ্যে বয়ে চলে।

যখন সৌর বায়ু পৃথিবীতে পৌঁছায় তখন আমাদের গ্রহের চৌম্বকীয় ক্ষেত্রের রেখা একটি অদৃশ্য ঢাল গঠন করে যা আমাদের সৌর বায়ু থেকে সর্বদা রক্ষা করে এবং মেরুর দিকে প্রেরণ করে। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের সাথে এই কণার মিথস্ক্রিয়া মেরু অঞ্চলের উপরে উজ্জ্বল অরোরা প্রদর্শন তৈরি করতে সক্ষম হয়।

কখনো কখনো, সৌর বায়ু খুব শক্তিশালী হয় এবং পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্রের মধ্যে প্রবেশ করে থাকে। এই প্লাজমা স্রোত চৌম্বক ক্ষেত্রের (ম্যাগনেটোস্ফিয়ার) গ্যাসের সাথে মিথস্ক্রিয়া করে দুর্দান্ত অরোরা তৈরি করতেও দেখা যায়।
পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্র মহাকাশে হাজার হাজার কিলোমিটার জুড়ে বিস্তৃত।

একটি নিয়ম অনুসারে, সূর্য বেশি সক্রিয় হলে অরোরা পৃথিবীতে আবির্ভূত হয় অদমনীয় ও অত্যাশ্চর্য প্রদর্শন নিয়ে। তখন উত্তর কানাডার উপরে অবস্থিত ডিম্বাকৃতি অরোরাটি আরও দক্ষিণে প্রসারিত হয়, কানাডার উত্তরের প্রদেশগুলো যেমন নুনাভুত, নর্থওয়েস্ট টেরিটরি ও ক্যুইবেকের উত্তরাঞ্চল সুস্পষ্ট অরোরা দেখতে পায়। যখন সৌর কার্যকলাপ হ্রাস পায়, ডিম্বাকৃতি তার স্বাভাবিক অবস্থানে ফিরে আসে এবং অরোরা কম তীব্র হয়।

এছাড়াও, সৌর বায়ুর কারণে, কখনও কখনও চৌম্বক ক্ষেত্রের রেখাগুলো সূর্যের বিপরীতে পৃথিবীর পাশে পুনরায় সংযোগ করে। তারা একটি ইলাস্টিক ব্যান্ডের মতো ফিরে আসে, পৃথিবীর মেরুতে প্রচুর পরিমাণে শক্তি ফেরত পাঠায়। চৌম্বকীয় পুনঃসংযোগ নামক এই ঘটনাটি অরোরার আরো অত্যাশ্চর্য প্রদর্শন তৈরি করে।

উত্তরের আলো বিভিন্ন রঙে আসে, সবুজ, লাল, নীল ইত্যাদি।

অরোরার ছবি তোলা:

উত্তরের আলোগুলো আলোর যে দর্শনীয় প্রদর্শন করে, আপনি নিজের চোখে দেখার সুযোগ পেলে ক্যামেরায় বন্দী করতে পারেন।

পরামর্শ হল, যতটা সম্ভব পরিষ্কার এলাকায় চবি তুলুন। তবে মুক্ত মনে এমন অঞ্চলগুলোতে চেষ্টা করুন যেখানে ফোরগ্রাউন্ডের ল্যান্ডস্কেপ উপাদানগুলো আপনার ফটোগুলোতে দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সহায়ক হয়৷

উত্তরের আলোর ছবি তোলার জন্য আপনার নিম্নলিখিত সরঞ্জামগুলোর প্রয়োজন হবে:

  • একটি ক্যামেরা যা দীর্ঘ এক্সপোজারে সক্ষম (অন্তত ১০ সেকেন্ড)।
  • একটি বলিষ্ঠ ট্রাইপড, কাঁপানো প্রতিরোধ করার জন্য অপরিহার্য।
  • একটি তারের রিলিজ বা রিমোট অপারেশানের জন্য, ঝাঁকুনি এড়াতে।
  • একটি ওয়াইড-এঙ্গেল লেন্সের ক্যামেরা (আদর্শভাবে)।

উত্তরের আলোর দুর্দান্ত ফটো তোলার জন্য নিচে তিনটি ধাপ অনুসরণ করা যেতে পারে।

১।একটি স্পট খুঁজুন
সমস্ত দিগন্তের পরিষ্কার দৃশ্য সহ একটি অন্ধকার অবস্থান চয়ন করুন।

একটি ট্রাইপড ব্যবহার করে, আপনার ক্যামেরাকে এমনভাবে বসাবেন যাতে আপনার ছবিতে আকাশ এবং গাছ বা কোন ল্যান্ডমার্ক অন্তর্ভুক্ত থাকে। সোজা উপরে আকাশেও একটি ছবি তুলুন।

২।আপনার সেটিংস সামঞ্জস্য ঠিক করুন
এক্সপোজার: স্টার ট্রেলগুলো ফটোতে উপস্থিত হওয়া রোধ করতে আপনার এক্সপোজার সময় ১০ থেকে ২৫ সেকেন্ডের মধ্যে সেট করুন। দীর্ঘ এক্সপোজার উজ্জ্বল ছবি তৈরি করবে। তবে যদি অরোরা দ্রুত চলে যায়, তাহলে ছবিটি অস্পষ্ট হবে।

অ্যাপারচার: আপনার ক্যামেরায় যতটা আলো প্রবেশ করছে তা নিশ্চিত করতে অ্যাপারচারটিকে সর্বনিম্ন সম্ভাব্য কনফিগারেশনে (f/2.8, f/3.5 বা f/5.6, আপনি যে লেন্স ব্যবহার করছেন তার উপর নির্ভর করে) সেট করুন।

ইয়েলোনাইফ এনডব্লিউটি তে তোলা উত্তরের আলোর ছবি ক্রেডিট কানাডিয়ান স্পেস এজেন্সি ক্যালগারি বিশ্ববিদ্যালয় জ্যোতির্বিদ্যা উত্তর

ফিল্মের গতি ISO: পর্যাপ্ত বিবরণ সহ আলো রেকর্ড করতে আপনার ফিল্মের গতি 400 ISO বা 800 ISO-তে সেট করুন৷ উচ্চতর ফিল্মের গতি বেশি আলো এবং রঙ সংগ্রহ করে, কিন্তু ছবির গুণমান প্রায়শই দানাদার হয়।

ফোকাস: তারার উপর আপনার ক্যামেরা ফোকাস করুন। তারা ফোকাসে আনার জন্য আপনার লেন্স প্রায় ইনফিনিটিতে সেট করুন। যদি একটি ডিজিটাল ক্যামেরা ব্যবহার করেন, তাহলে তারার একটি অনুশীলনী ছবি তুলুন এবং ফোকাস চেক করতে ছবিটি পর্যালোচনা করুন।

৩। স্ন্যাপিং শুরু করুন
ফিল্মের গতি এবং এক্সপোজার দৈর্ঘ্যের বিভিন্ন সমন্বয় নিয়ে পরীক্ষা করুন। চাঁদের আলো এবং অরোরা আলোর অবস্থা দ্রুত পরিবর্তন হতে পারে, তাই যে কোনো সময় এই সেটিংস সামঞ্জস্য রক্ষা করে প্রস্তুত থাকুন।

অরোরা দেখার গাইড :
অরোরা দেখতে আপনার কোন বিশেষ সরঞ্জামের প্রয়োজন নেই, শুধুমাত্র একটি স্বাস্থ্যকর উৎসাহ।

কানাডার উত্তরাঞ্চলীয় সম্প্রদায়গুলো নিয়মিতভাবে অরোরা বোরিয়ালিস প্রদর্শন করে, কারণ তারা অনেকে অরোরার নিচেই অবস্থান করে।

- Advertisement -

Read More

Recent