কুইবেকে ইনুইটদের জেলে যেতে হয় প্রাদেশিক গড়ের চেয়ে ১৫ গুন বেশি

কুইবেকে ইনুইটদের জেলে যেতে হয় প্রাদেশিক গড়ের চেয়ে ১৫ গুন বেশি

ওসমান ইলগুন গ্রেপ্তার হন ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে। এর পরপরই কুইবেকের নুনাভিক অঞ্চলের কুয়াকটাকের ইনুইট কমিউনিটিতে তার বাড়ি থেকে দেড় হাজার কিলোমিটার দূরে ডিটেনশন সেন্টারে হস্তান্তর করা হয়।

কুইবেকের আমোসের জেলে তাকে খেতে দেওয়া হতো কাঁচা খাবার। তিনি বলেন, তার বিশ্বাস কারারক্ষী এটা ধরেই নিয়েছিলেন যে, ইনুইটরা বোধহয় কাঁচা খাবারই খেয়ে থাকে। তাকে জোরপূর্বক কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়। তাকে গোসল কিংবা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ফোনে কথা বলার সুযোগ সেভাবে দেওয়া হতো না।

ইগুনকে জেলে যেতে হয় যৌন উৎপীড়নের অভিযোগে। তিনি বলেন, আমার মা খুবই উদ্বিগ্ন ছিলেন। কারণ, এখানে কী ঘটছে তা জানাতে আমার মায়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলতে দেওয়া হতো না। ইলগুন তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং তার মামলাটি এখন বিচারের পর্যায়ে রয়েছে।

২০২২ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত গত ১২ মাসে কুইবেকের জেলে যে ৬১৭ জন ইনুইট সম্প্রদায়ের লোক ছিলেন ইলগুন তাদের একজন। সংখ্যাটি কুইবেকে বসবাসকারী মোট ইনুইট মানুষের ৪ দশমিক ৫ শতাংশ, যা প্রদেশে মোট কারাবন্দির ১৫ গুন বেশি। প্রদেশে ইনুইট সম্প্রদায়ের মানুষ রয়েছে সাকল্যে ১৩ হাজার ৬১৩ জন। এছাড়া এ হার কুইবেকে যে বিভিন্ন আদিবাসী গোষ্ঠীর কারাবন্দি মানুষ রয়েছে তারও দ্বিগুন।

অপরাধ প্রতিরোধ এবং অপরাধীদের বিচার ব্যবস্থার বাইরে যে ধরনের কর্মসূচি প্রয়োজন কুইবেকের নুনাভিক অঞ্চলে তা অনুপস্থিত। প্রদেশের সিংহভাগ ইনুইট মানুষ এই অঞ্চলেই বসবাস করেন।

ট্রমা থেকে লোকজনকে বের করে আনতে জরুরি যৌন শিক্ষা ও সেবা এই অঞ্চলে কয়েক দশক ধরেই নেই। এটা নিরন্তর চলমান এই নির্যাতনের চক্র জিইয়ে রাখছে। নুনাভিক আদালত যৌন নিপীড়নের অনেক মামলা পরিচালনা করেছে। কিন্তু এ থেকে বেরিয়ে আসতে প্রয়োজনীয় কর্মসূচি দক্ষিণ কুইবেকে বিদ্যমান থাকলেও উত্তরে তা অনুপস্থিত। কেবলমাত্র পেশাগত কিছু সহায়তা পাওয়া যায়। তা-ও দিয়ে থাকেন দক্ষিণ থেকে আসা কর্মীরা। সেই সঙ্গে এমন সব সমস্যার সমাধান তাদেরকে দিতে বলা হয় যা তাদের সামর্থ্যরে বাইরে। এর ফলে ইনুইট লোকজনকে গৃহবন্দিত্ব বা শর্তসাপেক্ষে শাস্তির পরিবর্তে জেলে যেতে হয় বেশি।

২০২২ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত ইনুইটরা ছিলেন প্রদেশের মোট জনসংখ্যার দশমিক ১৬ শতাংশের কিছু বেশি। কিন্তু প্রদেশের মোট বন্দির ২ দশমিক ৪৫ শতাংশ ছিলেন তারা।

This article was written by Rezaul Haque as part of the LJI

- Advertisement -

Read More

Recent